খবরটি যেন হঠাৎ করেই নিভিয়ে দিলো স্মৃতির মঞ্চের একটি উজ্জ্বল আলো।
মারা গেলেন এক সোনালী যুগের অভিনেতা ইলিয়াস জাবেদ। খবরটি যেন হঠাৎ করেই নিভিয়ে দিলো স্মৃতির মঞ্চের একটি উজ্জ্বল আলো। তাঁর চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শূন্য হলো আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—যেখানে অভিনয় মানেই ছিল সংযম, চোখের ভাষা আর গভীর মানবিকতা।
ইলিয়াস জাবেদ ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যিনি উচ্চস্বরে নিজেকে জাহির করেননি, বরং নীরবে কাজের মধ্য দিয়েই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর অভিনয়ে ছিল পরিমিত আবেগ, ছিল চরিত্রের প্রতি সততা। সংলাপ কম হলেও চোখের দৃষ্টিতে, মুখের অভিব্যক্তিতে তিনি বলে দিতেন অনেক কিছু। তাই তাঁর উপস্থিতি পর্দায় মানেই ছিল বিশ্বাসযোগ্যতা।
একটি সময় ছিল—যখন সিনেমা ও নাটকের গল্প এগোত অভিনেতার অভিনয়ের শক্তিতে। ইলিয়াস জাবেদ সেই সময়ের প্রতিনিধি। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, জনপ্রিয় হতে হলে অতিরঞ্জন নয়, প্রয়োজন গভীর উপলব্ধি ও নিষ্ঠা। নায়ক হোন কিংবা সহকারী চরিত্র—প্রতিটি ভূমিকায় তিনি ছিলেন সমান যত্নশীল, সমান দায়িত্ববান।
সহশিল্পীরা তাঁকে স্মরণ করেন ভদ্র, বিনয়ী ও সহযোগিতাপরায়ণ মানুষ হিসেবে। নতুন শিল্পীদের প্রতি ছিল তাঁর অকৃত্রিম স্নেহ। আলো-ঝলমলে খ্যাতির বাইরে থেকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন এক শান্ত, শালীন শিল্পীজীবন—যেখানে কাজই ছিল একমাত্র পরিচয়।
আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি রয়ে গেছে। পুরোনো দৃশ্য, সংলাপ আর চরিত্রগুলো বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেবে—একজন সত্যিকারের অভিনেতা কখনো হারিয়ে যান না। ইলিয়াস জাবেদ বেঁচে থাকবেন আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের পর্দায়, আমাদের ভালোবাসায়—এক সোনালী যুগের অমলিন প্রতিনিধি হয়ে।
বিল্লাল আব্বাস খান: পরিশ্রম, প্রতিভা আর সাফল্যের অনুপ্রেরণামূলক গল্প
